পেকুয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় উৎসবমুখর ও জ্ঞানভিত্তিক পরিবেশে ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ উপলক্ষে বিজ্ঞান মেলা এবং ১০ম বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
“উদ্ভাবন নির্ভর বাংলাদেশ গঠনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, গবেষণামুখী মনোভাব এবং প্রযুক্তিনির্ভর ধারণার প্রাণবন্ত প্রকাশ ঘটে। মেলার সমাপনী অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয় উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে।
উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ বিজ্ঞান মেলায় মাধ্যমিক পর্যায়ের ৫টি বিদ্যালয় এবং উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের ১টি কলেজসহ মোট ৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই নিজস্ব স্টল স্থাপন করে বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শন করে, যা দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে।
মেলায় প্রদর্শিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে পরিবেশ সুরক্ষা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিদ্যুৎ সাশ্রয়, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তির ব্যবহারিক প্রয়োগ সম্পর্কিত বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়। অনেক শিক্ষার্থী স্বল্প খরচে বাস্তবমুখী সমাধান উপস্থাপন করে, যা স্থানীয় সমস্যার সম্ভাব্য সমাধান হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এমদাদুল হক শরীফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে বিচারকমণ্ডলী শিক্ষার্থীদের প্রকল্প ঘুরে দেখেন এবং তাদের উদ্ভাবনী প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) এ.এস.এম. নুরুল আখতার নিলয়, একাডেমিক সুপারভাইজার উলফাত জাহান চৌধুরী, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আশীষ বোষসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
প্রজেক্ট উপস্থাপনা প্রতিযোগিতায় “আবর্জনা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন” শীর্ষক পরিবেশবান্ধব ও সময়োপযোগী প্রকল্প উপস্থাপন করে প্রথম স্থান অর্জন করে শিলখালী উচ্চ বিদ্যালয়।
একই ধারার “বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন” বিষয়ক প্রকল্প নিয়ে দ্বিতীয় স্থান লাভ করে পেকুয়া সরকারি মডেল জি.এম.সি. ইনস্টিটিউশন।
এছাড়া “বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী পেকুয়া” শীর্ষক প্রকল্প উপস্থাপন করে তৃতীয় স্থান অর্জন করে পেকুয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।
বিচারকমণ্ডলী জানান, বিজয়ী প্রকল্পগুলো বাস্তবসম্মত, পরিবেশবান্ধব এবং দেশের জ্বালানি সংকট নিরসনে সম্ভাবনাময় দিক নির্দেশনা প্রদান করে।
বিজ্ঞানভিত্তিক জ্ঞান যাচাইয়ের লক্ষ্যে আয়োজিত দলগত কুইজ প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে শিলখালী উচ্চ বিদ্যালয়। দ্বিতীয় স্থান লাভ করে পেকুয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করে পেকুয়া সরকারি মডেল জি.এম.সি. ইনস্টিটিউশন। প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল প্রাণবন্ত ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ।
বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা তাদের তাত্ত্বিক জ্ঞান ও বিশ্লেষণ ক্ষমতার প্রমাণ রাখে। এতে প্রথম স্থান অর্জন করে শিলখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের তাহরিরা জান্নাত তাওয়াক্কুল। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করে যথাক্রমে পেকুয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সুমাইয়া জান্নাত সুভা এবং শারাবান তাহুরা সিমরান।
আয়োজক ও সংশ্লিষ্টরা জানান, এ ধরনের বিজ্ঞান মেলা ও অলিম্পিয়াড শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানচর্চা, সৃজনশীলতা এবং উদ্ভাবনী দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক বাংলাদেশ গঠনে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রস্তুত করতে এ উদ্যোগ কার্যকর অবদান রাখবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তার বক্তব্যে বলেন, “বর্তমান বিশ্বে টিকে থাকতে হলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জনের বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তাকে উৎসাহিত করতে এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত হওয়া প্রয়োজন।”
